Ad Clicks : Ad Views :

দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করার সহজ উপায়! ২০২১

/
/
/

হলদেটে দাঁত বড়ই অস্বস্তিকর বিষয়। দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এবং সকালে খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করা জরুরি। কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে, যেগুলো হলদেটে দাঁতকে সাদা করতে কাজ করে। হলদে ভাব কাটিয়ে দাঁত ফের উজ্জ্বল, ঝকঝকে সাদা করে তুলতে আধুনিক পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু একেবারে কম খরচে যদি দাঁতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে আজ থেকেই এই ৫টি অব্যর্থ ঘরোয়া পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই তফাৎ চোখে পড়বে…

আরো জানুনঃ
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিত্যদিনের সঙ্গী রসুন !


কলার খোসা:

কলার খোসার সাদা দিকটি নিয়মিত দাঁতে ঘোষলে দাঁতের হলদেটে ভাব দ্রুত কেটে যায়। তবে কলার খোসা দিয়ে দাঁত ঘষার পর অবশ্যই হলকা গরম জল দিয়ে ভাল করে কুলকুচি করে নিতে হবে।

তুলসি পাতা:
তুলসি পাতা দাঁতের স্বাস্থ্যের পক্ষে বেশ উপকারী। বেশি করে তুলসি পাতা নিয়ে সেগুলিকে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। পাতাগুলি একেবারে শুকিয়ে গেলে সেগুলিকে গুঁড়ো করে যে কোনও টুথপেস্ট মিশিয়ে নিয়মিত ব্রাশ করলে দাঁতের হলুদ ভাব একেবারে চলে যায়।

নুন:
দাঁতকে পরিষ্কার রাখতে বহু যুগ ধরেই নুনের ব্যবহার হয়ে আসছে। কারণ, নুন দাঁতের পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশপাশি দাঁতের সৈন্দর্য বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই দাঁতের হলদে ভাব কাটানোর ক্ষেত্রে নুনকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরাও। এ ক্ষেত্রে রোজ সকালে চারকোলের (কাঠকয়লা) সঙ্গে নুন মিশিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। কয়েক সপ্তাহ এই মিশ্রণ দিয়ে দাঁত মাজলেই দাঁতের হলদে ভাব অনেকটা কমে যাবে।

কমলা লেবুর খোসা:
দাঁতের সৌন্দর্য ফেরাতে কমলা লেবুর খোসা দারুন কার্যকরী। রোজ রাতে সামান্য কমলা লেবুর খোসা নিয়ে দাঁতে একটু সময় নিয়ে ঘষুন। নিয়মিত এমনটা করলেই দাঁতের হলদে ভাব অনেকটা কমে যাবে।

ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট
ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করে। ফ্লোরাইড দাঁতকে মজবুত করে এবং দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে কাজ করে। তবে ভালো মানের টুথপেস্ট ব্যবহার করছেন কি না, এ বিষয়ে আগে নিশ্চিত হোন।

বেকিং সোডা
এক চা চামচ বেকিং সোডার মধ্যে এক চিমটি লবণ দিন। একে আপনার টুথপেস্টের সঙ্গে মেশান। এর পর দাঁত ব্রাশ করুন। এটি দাঁতের পাথর বা টারটার দূর করতে সাহায্য করবে। এতে হলদেটে ভাবও দূর হবে। ভালো ফল পেতে অন্তত সপ্তাহখানেক এটি ব্যবহার করুন।

পাতি লেবুর খোসা:
পাতিলেবু সব বাড়িতেই কম-বেশি খাওয়ার কাজে ব্যবহার হয়। ফলে বাড়িতে থাকেই। সেই পাতিলেবুর খোসা এক মুঠো নিয়ে দুই-তিন দিন রোদে দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে। তারপর মিক্সিতে দিয়ে ভালো করে গুঁড়ো করে নিতে হবে। সেটি একটি পরিষ্কার ঢাকনাওয়ালা পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। এ বার তার থেকে দুই চামচ গুঁড়ো নিয়ে নিতে হবে। সেই গুঁড়োতে এক চামচ গরম জল ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এ বার এই পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে দুই-তিন দিন এটি দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। এতে পাতিলেবুর খোসার গুণাগুণ দাঁতের যত্ন নেবে। এর মধ্যে থাকা ব্লিচিং প্রপার্টিস দাঁতের হলদে দাগ তুলে দেবে।

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:
অ্যাপেল সিডার ভিনিগারে রয়েছে প্রচুর উপকারী উপাদান। এই উপাদানগুলি দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে খুব দ্রুত। সেই সঙ্গে হলদে ভাবও তাড়াতাড়ি দূর করে দেয়। সপ্তাহে খুব বেশি দুই দিন অ্যাপেল সিডার ভিনিগার ব্যবহার করা যাবে। এই অ্যাপেল সিডার ভিনিগারের সঙ্গে জল মিশিয়ে তা দিয়ে কুলকুচি করতে হবে। তার জন্য এক চামচ অ্যাপেল সিডার ভিনিগার নিতে হবে। তার সঙ্গে তিন চামচের মতো জল মেশাতে হবে। এই ভাবে তৈরি হবে মাউথ ওয়াশ। এই মাউথ ওয়াশ ব্যবহারের পর অবশ্যই ঠান্ডা জল দিয়ে কিছুক্ষণ কুলকুচি করে নিতে হবে।

নারকেল তেল দিয়ে কুলকুচি করতে হবে:
নারকেল তেলে থাকে একটি বিশেষ ধরনের অ্যাসিড। সেই বিশেষ ধরনের অ্যাসিডটি মুখের ভেতরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলিকে মেরে ফেলে। ফলে প্ল্যাকের মতো সমস্যা দূর হয়। ফলে দাঁত সুন্দর থাকে। নারকেল ব্যাবহারের পদ্ধতি হল কোনো কিছু না মিশিয়ে। সরাসরি। দুই চামচ নারকেল তেল মুখে নিয়ে কুলকুচি করতে হবে টানা পাঁচ মিনিট। নিয়মিত করে ফল অবশ্যই মিলবে।

তিল:
তিল ব্যবহারের পদ্ধতি হল, চার চামচ তিল ভালো করে বেটে তৈরি করে নিতে হবে পেস্ট। সেই পেস্ট দিয়ে সপ্তাহে অন্তত চার দিন দাঁত মাজলে হলদে ভাব দূর হবে। সেই সঙ্গে উন্নতি হবে এনামেলের গঠনেও। ফলে দাঁত হলদে দেখার আশঙ্কা থাকবে না। এটি গেল একটি পদ্ধতি। তা ছাড়াও অল্প তিলের তেল মুখে নিয়ে কুলকুচি করলেও উপকার পাওয়া যায়।

নিমের দাঁতন:
দাঁতের যত্নের অন্যতম সুপরিচিত নাম হল নিমের দাঁতন। বহু প্রাচীন কাল থেকেই এই নিমের দাঁতন ব্যবহার হয়ে আসছে। নিমের ডালে রয়েছে, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। তার গুণে ক্যাভিটির মতো সমস্যা তো দূরে যায়। সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধও দূর হয়। অবশ্যই দূর হয় দাঁতের হলদে ভাবও। তা ছাড়া মাড়ির যে কোনো রকম সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। তা ছাড়া নিমের ডাল শুকিতে নিয়ে পাউডার বানিয়ে নিয়ে সেই পাউডারও দাঁত মাজার কাজে নিয়মিত ব্যবহার করা যেতে পারে। তাতেও উপকার একই মেলে।

মধু:
মধুর উপকারিতা অনেক। সে কথা বলে শেষ করা যায় না। দাঁতের যত্নে মধুর কোনও বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে চার চামচ মধুর সঙ্গে দুই চামচ ভিনিগার মিশিয়ে নিতে হবে। সেই মিশ্রণ দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। নিয়মিত করলে অল্প দিনেই দাঁতের হলদে ভাব দূর হবে। সঙ্গে দাঁতের উপরের অংশের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও আর থাকবে না।

পুদিনা পাতা:

টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজার পরে পুদিনা পাতার ব্যবহার করতে হবে। কয়েকটি পুদিনা পাতা থেঁতো করে তা দাঁতে এবং মাড়িতে ঘষলে মুখের দুর্গন্ধ যেমন দূর হবে তেমনই দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়াও মারা পড়বে। দাঁতের নানান সমস্যা দূরে থাকবে। দাঁতের হারিয়ে যাওয়া সাদা ভাব ফিরে আসবে।

লবঙ্গ এবং নুন:
আজকাল অনেক টুথপেস্টেই লবঙ্গ আর নুন থাকার কথা দাবি করা হচ্ছে। তার কারণ হল দাঁতকে সুস্থ রাখতে এই দু’য়ের কোনো তুলনা হয় না। দাঁতের যত্নে লবঙ্গ তেলের ব্যবহার বহু প্রাচীন কাল ধরেই হয়ে আসছে। তেমনই কাঁচা লবঙ্গও খুবই উপকারী। লবঙ্গের সঙ্গে লাগবে নুন। এই দুই দাঁতের হলুদ দাগ-ছোপ দূর করে। তার জন্য প্রথমে লবঙ্গ গুঁড়ো করে নিতে হবে। সেই গুঁড়ো থেকে এক চামচ নিয়ে তাতে সম পরিমাণ অর্থাৎ এক চামচ নুন মিশিয়ে নিতে হবে হবে। এ বার তা দিয়ে দাঁত মাজতে হবে। নিয়মিত এই ভাবে দাঁতের যত্ন নিতে হবে। তা হলে দাগমুক্ত ঝকঝকে দাঁত পাওয়া যাবে।

তবে দাঁত ভাল রাখতে একটা কথা সব সময় মাথায় রাখতে হবে। দিনের যে কোনও সময় খাবার পর অবশ্যই মুখ ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে দিনে অন্তত দু’বার করে দাঁত মাজতে হবে। এ ছড়াও, ধূমপানের ফলেও দাঁতে হলদেটে ছোপ পড়ে। তাই ধূমপানের মাত্রা কমালে বা ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে পারলে দ্রুত উপকার মিলবে।

ওজন কমান হেঁসেখেলেই ২০২১

নারী স্বাস্থ্য সমস্যা

  • Facebook
  • Twitter
  • Google+
  • Linkedin
  • Pinterest

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This div height required for enabling the sticky sidebar